আহসানুর রহমান রাজীব: শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জহুরুল ইসলাম সোহাগ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিকল্পধারার প্রার্থীর পক্ষে কুলা প্রতীকে ভোট চাওয়ায় তাকে ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা পুরাতন খবর। নতুন খবর হলো জহুরুল ইসলাম সোহাগকে বহিষ্কার করে একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. মতিয়ার রহমানকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ।
শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গাজী একরামুল হক লায়েছ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাকিম সবুজ স্বাক্ষরিত একপত্রে মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) মো. জহুরুল ইসলাম সোহাগকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ দেখিয়ে ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। একই পত্রে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মো. মতিয়ার রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছেন তারা।
কিন্তু এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
তারা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া মতিয়ার রহমান ২০১৫ সালে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ নিয়ে তৃণমূল ছাত্রলীগ ও প্রকৃত আওয়ামী লীগারদের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেবার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার সেই পত্রটি ফেসবুক ভাইরাল হয়ে যায়।
ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এভাবে জামায়াত-বিএনপির মানুষদের নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার মধ্য দিয়ে গভীর চক্রান্ত করা হচ্ছে। এরাই নির্বাচনের দিন নৌকার ব্যাজ লাগিয়ে আওয়ামী লীগের সর্বনাশ করবে- এমনই আশংকা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের।
২০১৫ সালে গঠিত বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও বর্তমানে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সম্পাদক হাফিজ আল আসাদের স্বাক্ষরে মো. মতিয়ার রহমানকে ওই সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের পদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সে কমিটি এখনো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আজ হঠাৎ শুনলাম সে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছে।
এ নিয়ে জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গাজী একরামুল হক লায়েছ জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জহরুলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর মতিয়ার দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। সে রাজপথে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলো। আর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে পরামর্শ করেই তাকে এ পদ দেওয়া। তার ওয়ার্ড ছাত্রদলের কমিটির একটি ছবি আমিও দেখেছি, তবে সেটা ভুয়।
এ সম্পর্কে জানতে চেয়ে শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাকিম সবুজকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমরা জহরুলের বিরুদ্ধে কুলা প্রতীকে প্রচার-প্রচরণার যথেষ্ট প্রমাণ পেয়েছি। সেই প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কার করেছি। এবারের নির্বাচন ছাত্রলীগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে সংগঠন বিরোধী কাজ করবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মতিয়ার রহমানকে এ পদের আনার জন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রত্যয়ন দিয়েছিলেন। আর তার ছাত্রদলের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ আমার কাছে নেই। অভিযোগ পেলে সংগঠনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।
এদিকে, রাতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরার কার্যালয়ে ফোন করে নিউজটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
