ঢাকাThursday , 20 December 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

রণাঙ্গনের গল্প: খান সেনাদের আটকাতে থানাঘাটা ব্রিজ ভেঙে দেই

admin
December 20, 2018 8:29 pm
Link Copied!

আরিফুল ইসলাম রোহিত:
বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বাসার। নাট্যপরিচালক ও নাট্যাভিনেতা খায়রুল বাসার বসবাস করেন সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায়। ১৯৭১ সালে তিনি চাকরি করতেন খুলনা পাওয়ার হাউজ স্টেশনে। তখন তার বয়স ২১ কি ২২ বছর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে দেশ মাতৃকার টানে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে ৮ মার্চ কর্মস্থল ত্যাগ করে সাতক্ষীরায় ফিরে আসি। ১২ মার্চ থেকে সাতক্ষীরা কলেজের কিছু ছাত্রকে নিয়ে জিন্নাহ পার্কে ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করি। তখন কলেজের বিএনসিসির রাইফেল দিয়ে তাদের প্রাথমিক ট্রেনিং দেওয়া হয়। ২৫ মার্চ সাতক্ষীরা থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অস্ত্র চান তারা। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়, এই বলে যে, তারা এখনো অস্ত্র দেওয়ার অনুমতি পাননি। তার সাথে ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী ময়না। তারা সবাই মিলে ঠিক করেন সাতক্ষীরায় খান সেনাদের আটকাতে হবে। আর তাই থানাঘাটার কাঠের ব্রিজ ভেঙে দেন আর কদমতলা থেকে কিছুদূর সামনে রাস্তা কেটে দেন তারা।
১৯৬৯ সাল থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ করা খায়রুল বাসারের সতীর্থরা অস্ত্র না পেয়ে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েন মানুষকে সচেতন করার কাজে। এর আগেও তিনি খুলনার খালিশপুর, দৌলতপুর, মহেশ্বরপাশা ও ডুমুরিয়ায় ট্রাকের উপরে ভাসমান অবস্থায় বিভিন্ন নাটকের মাধ্যমে মানুষকে সচেতনতার কাজ করেছেন। এ কারণে বিভিন্ন জায়গায় লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। কুলিয়ায় এক স্থানে মানুষকে সচেতনতার কাজ করতে গিয়ে ডাকাত উপাধিও পেয়েছেন খায়রুল বাসার ও তার সতীর্থরা।
এদিকে, স্বাধীনতার ঘোষণা পাওয়ার সাথে সাথে খায়রুল বাসার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে পরিবারের সাথে তার গ্রামের বাড়ি আঁগড়দাড়ি চলে যান। হঠাৎ একদিন কিছু একটা কাজে আবাদের হাটে এসে জানতে পারেন খান সেনারা সাতক্ষীরায় আসছে। আর তারপরেই চলে যান ভাদলি সীমান্তে। সেখান থেকে চলে যান ভারতের হাকিমপুর।
মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বাসার আরও বলেন, হাকিমপুর থেকে কিছুদিন পরেই চলে গেলাম বশিরহাট। সেখান থেকে আবার ভোমরা চলে আসলাম। সেখানে গিয়ে দেখি সাতক্ষীরার মুক্তিযোদ্ধা রিয়াছাত আলী রাজাও রয়েছেন। পরে কোলকাতায় গিয়ে সেখানকার নাট্য দলের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। এর আগেও আমি খুলনা বেতারের নাট্যশিল্পী ছিলাম। এর পরে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নেওয়ার জন্যে ঘোজাডাঙ্গা থেকে ইটিন্ডি আমবাগানে চলে গেলাম। সেখানে আমাদের কমান্ডার ইনচার্জ ছিলো ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দীন। ইটিন্ডি আমবাগানে ইপিআররাই ট্রেনিং দিতো। আমাদের দুটো টিম ছিলো। আমরা একদলে ছিলাম ১৭ কি ১৮ জন। এর মধ্যে রয়েছে- মাসুদ খান, কামরুল, কামরুচ্ছামাদ, দৌলতপুর কলেজের ভিপি স ম বাবর আলী, কাজল, হাবলু, খোকা, নুরুজ্জামান, মনোরঞ্জন, নারায়ন, বদরুল ইসলাম, রশিদ ও বনমালী প্রমুখ। সেখানে আরও একটি দলের নেতৃত্বে ছিলো যশোরের ছেলে মুরাদ। সেখানেও ১৬-১৭ জন ছিলো। আমাদের ট্রেনিং করানো হতো ইটিন্ডি আম বাগানে। প্রায় মাসখানেক ট্রেনিং করলাম সেখানে। আমাদের তখন ট্রেনিং শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত পার হয়ে প্রথমে যে খালটি রয়েছে তারই পাশে উঁচু মাটির ঢিবি ছিলো। সেখানেই আমাদের বাংকার করা ছিলো। সেখানে আমরা নিয়মিত রাতে পাহারা দিতাম। হঠাৎ একদিন রাত ২টার সময় আমাদের বেল বাজিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুললো কমান্ডাররা। যে যার মতো পোশাক, হেলমেট আর ব্যাগ প্রস্তুত করলাম। জানতে পারলাম যে বর্ডারে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের সবার কাছে একটা করে থ্রি নট থ্রি বন্দুক ছিলো। তা নিয়ে সবাই প্রস্তুত ছিলাম। আমাদের সকলকে একটা বাসে করে বর্ডার পর্যন্ত নিয়ে আসা হলো। তখন জুন মাসের শেষের দিক।
খায়রুল বাসার বলেন, আমাদের বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে বলা হলো মাথা নিচু করে জোরে দৌড় দিতে। আর নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়তে। কিন্তু ট্রেনিং আর বাস্তব জিনিসে অনেক পার্থক্য। তখনই তা বুঝতে পারলাম। আমরা গিয়ে দেখি পুরো বর্ডারে তখন গোলাগুলি চলছে। আমি দু’রকমের গুলির আওয়াজ শুনতে পেলাম। একটা চুই, চুই আর একটা ডুস-ঢাস। অর্থাৎ চুই চুই হলো খান সেনাদের চায়না রাইফেলের শব্দ। কিন্তু আমাদের কাছে ছিলো ছোট আর হালকা বন্দুক। তাই গুলি বের হতে গেলে বেশি জোরে শব্দ হতো।
সেখানে আমাদের সাথে খান সেনাদের সারা রাত যুদ্ধ হলো। ওদের কাছে ভারি অস্ত্র। আর আমাদের কাছে সর্বোচ্চ হলে দুটো মর্টার শেল আর কয়েকটা মেশিনগান। কিন্তু ওদের অস্ত্রের কাছে এসব কিছুই না। তবুও যখন সকাল হলো, সূর্য উঠলো তখন দেখলাম আমাদের সামনে কয়েকশ খান সেনার লাশ পড়ে আছে। আমরা তো অবাক। সকাল থেকে বেশ কিছু সময় গুলি হলো। তারপর বন্ধ হয়ে গেলো। সারা দিন মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছিল। মাঝে ওরা কিছু গুলি করলে আমরাও কিছু গুলি করলাম। কিন্তু সন্ধ্যের কিছুক্ষণ আগে থেকে ফায়ার একেবারে বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু পাশের জন বললো এবার নিশ্চই মর্টার মারবে। সত্যিই তাই হলো রাত একটু নামতেই চারিদিক থেকে মর্টার মারতে শুরু করলো। ওরা টুইন্স শেল মারছে, থ্রি ইন্স শেল মারছে, রকেট ল্যান্সার মারছে। আরও বিভিন্ন ধরণের গোলা মারা শুরু করলো। আর তখন আমাদের টিকে থাকার জোর ছিল না। আমাদের নির্দেশ দেওয়া হলো সকলকে চলে যেতে। আমরা সকলে আবার পিছনে ফিরতে শুরু করলাম।
যখন ক্যাম্পে ফিরলাম তখন অনেক রাত। একটা যুদ্ধ থেকে পিছু হটে ফিরে আসা যে কত কঠিন তার বর্ণনা দেওয় অসম্ভব। কারণ আমাদের গায়ের পোশাক ছিলো খান সেনাদের পোশাকের মতো। বিএসএফ যদি আবার পাকিস্তানি ভেবে গুলি করে বসে সেটাও ভয় ছিলো। যাই হোক, সেভাবেই আমরা পার হয়েছি। তবে পরে শুনেছি ভোমরার ওই যুদ্ধে পাকিস্তানিদের প্রায় ৩শ’রও বেশি খান সেনা মারা গেছে। ট্রাকে করে সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে নিয়ে গেছে। সারা রাস্তায় রক্ত পড়েছিলো। আর এভাবেই শেষ হলো দেশের মধ্যে প্রথম বড় আর মুখোমুখি যুদ্ধ।
এই যুদ্ধে তিনজন মুক্তিযোদ্ধা মারা গিয়েছিলো- যারা খান সেনাদের হত্যা করা লাশ আনতে উপরে উঠেছিলো।
যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। এখন কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে। কোন দেশ কম সময়ে পারে, আবার কারও বেশি সময় লাগে। তবে আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। যদিও আমাদের সংস্কৃতি হারিয়ে গেছে। বিশেষ করে এই সাতক্ষীরার মাটি সংস্কৃতির দিক থেকে অনেক উন্নত ছিলো- কিন্তু আজ তা আর নেই। আমাদের সকলকে এই দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে। যদি আবারও ১৯৭১ এর মতো সকলে মিলে এই দেশের জন্যে কাজ করা যায়, তবেই আমাদের এই দেশ সংস্কৃতিতে, রাজনীতিতে ও অর্থনীতিতে এগিয়ে যাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।