ঢাকাThursday , 13 December 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

রণাঙ্গনের গল্প: সবাই ভেবেছিলো আমরা ৪ জন শহীদ হয়ে গেছি

admin
December 13, 2018 8:12 pm
Link Copied!

সৌমেন মজুমদার, তালা: বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মকবুল ইসলাম। তালার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দেওয়ানী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মকবুল ইসলাম গড়নে হাল্কা পাতলা হলেও ছোট বেলা থেকেই খুব ডানপিঠে ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, তখন ধীরে ধীরে দেশের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। পাকিস্তানিরা বাঙালিদের উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে মনের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাধতে থাকে। হঠাৎ খবর পেলাম ৭ মার্চ শেখ সাহেব ভাষণ দেবেন। আগ্রহ নিয়ে ৭ মার্চের সেই ভাষণ শুনলাম। জ্বালাময়ী সেই ভাষণ শুনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম যুদ্ধে যাবো, দেশকে স্বাধীন করতে হবে পাকিস্তানিদের হাত থেকে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মকবুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে বলেন, লোক মুখে শুনেছি মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং হচ্ছে। কিন্তু কোথায় হচ্ছে, সেখানে কিভাবে যাবো- কিছুই জানি না। তবুও বাড়ির কাউকে কিছু না বলে আমাদের গ্রামের খবির উদ্দিন সরদারকে সাথে নিয়ে রওনা হই মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিতে। খোর্দ পার হয়ে বাহন খালি হাটখোলা পৌঁছাতেই পড়ে যায় শান্তি কমিটির সভাপতি এক ডাক্তারের সামনে। পূর্বশত্রুতার কারণে খবির উদ্দিনকে তিনি বেদমপ্রহর করেন, আর আমাকে বলেন সোজা বাড়িতে ফিরে যেতে। আমি তাই করি জীবন বাচানোর তাগিদে। পরে শুনেছিলাম খহিরউদ্দিন কিছুদিন পর মারা যায়। আমি বাড়ি না গিয়ে খবির উদ্দিন যে বাড়িতে লজিংমাস্টার ছিলো সেই বাড়িতে গিয়ে উঠি। সেখান থেকে একজন হিন্দু দাদার সহযোগিতায় কাশিডাঙ্গা হয়ে ঝাউডাঙ্গা যাই। সেখান থেকে সোনাইনদী পার হয়ে প্রথমে হাকিমপুর ক্যাম্পে যাই।
মুক্তিযোদ্ধা মো. মকবুল ইসলাম বলেন, হাকিমপুর ক্যাম্পে জায়াগা স্বল্পতার কারণে চলে যাই বনগা ৫নং টালিখোলা ইয়ুথ ক্যাম্পে। সেখান থেকে ২৫ শে মে আমাদেরকে পাঠিয়ে দেয় গেরিলা ট্রেনিংয়ের জন্য। বিহার প্রদেশের বিরভূম জেলার চাকুলিয়া ক্যা¤েপ এক মাস গেরিলা ট্রেনিং শেষে ৩ দিন ধরে অপেক্ষায় থাকি গাড়ির জন্য। ১ মাস ৩ দিন পর আমাদের কল্যাণী হয়ে হাকিমপুর ক্যাম্পে নিয়ে আসে। ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ আমাদের ১৫ দিনের মত ক্যাম্পে রাখেন। তারপর আমাদের সেখান থেকে আমুদিয়া ক্যাম্পেপাঠিয়ে দেন। জমাদ্দার ওবায়দুল ছিলেন ওই ক্যাম্পের দায়িত্বে। আমুদিয়া ক্যাম্পে থেকে ৫-৬ মাইল রাস্তা হেটে প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশে আসতাম বিভিন্ন ছোট ছোট অপারেশনের জন্য। রাতে আবার ক্যাম্পে ফিরে যেতাম। পরে আমরা জমাদ্দার ওবায়দুলের নেতৃত্বে আগড়দাড়িতে রাজাকারদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আগড়দাড়ি যুদ্ধে নারানজোল গ্রামের মজিবর, কুশখালির শামসুভাই, বরিশালের ওস্তাদ পিপিআর আশরাফসহ আমি সামনে এগোতে এগোতে রাজাকারদের এতোটাই কাছে চলে যাই যে, আমরা দলছুট হয়ে যাই। একটু ভয়ই পেয়েছিলাম। আজ হয়তো আর ফিরতে পারবো কিনা। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় রাজাকারদের বোকা বানিয়ে ফিরে আসি ক্যাম্পে। সবাই ভেবেছিলো আমরা ৪ জন শহীদ হয়ে গেছি। এরপর আমুদিয়া ক্যাম্প থেকে বিভিন্ন সময়ে কলাগাছি, সাতআনি, ভাদ্রাসহ বেশ কয়েকটি সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। পরে আমুদিয়া ক্যা¤প থেকে হাকিমপুর ক্যাম্পে চলে আসি। সেখান থেকে ক্যাপ্টেন মাহাবুবুর রহমান আমাদের ১৩ জনকে একত্রিত করে ইটিন্ডা আম বাগান হয়ে বারাত পাঠিয়ে দেন। বারাত যুদ্ধে অংশগ্রহণের পর মীর্জাপুর পরামানিক পাড়ায় বটগাছের পাশে এমবুশ স্থাপন করি রাজাকারদের মারার জন্য, কিন্তু সেদিনের তথ্য ভুল থাকার কারণে সম্ভব হয়নি।
৮নং সেক্টরের যুদ্ধ জীবনে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ৪ দিন ৪ রাত এর মধ্যে ১ থালা ক্ষীর আর ১ পিচ রুটি খেয়ে কপিলমুনির রাজাকার ক্যাম্পকে রাজাকার মুক্ত করি। সেই দিনের কথা আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমরা প্রায় ২০০ জন কপিলমুনি বিনোদ বিহারী সাহেবের বাড়ির (রাজাকার ক্যাম্প) পার্শ্ববর্তী কপোতাক্ষ নদীর পাড়ে ভেড়ী বাধের নীচে অবস্থান নেই। কামরুজ্জামান টুকু ভাই ওই বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব পাশে, নদীর ওপারে ছিলেন সোবহান কমান্ডার তার দল নিয়ে, আব্দুস সালাম ভাই ছিলেন কাছিঘাটা বাজারে, ইঞ্জিনিয়র মুজিবর রহমান ছিলেন জেঠুয়া হাটখোলায়, আলাউদ্দিন ভাই ছিলেন ঘোষনগর কালভার্ট এর ওখানে। সবাই ছিলেন আমাদের কাউন্টার দেয়ার জন্য। ৪ দিন ৪ রাত পর রাজাকার যারা বেচে ছিলো তারা আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। একে একে মুক্ত হতে থাকে বিভিন্ন অঞ্চল, স্বাধীন হয় দেশ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।