নাহিদ হাসান ও ফাহাদ হোসেন: বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি। সাতক্ষীরা পিএন বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নাইনে অধ্যয়নরত অবস্থায় মহাকুমা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার। ১৯৭৩ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনিই প্রথম নির্বাচিত ভিপি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে অংশ নিয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। প্রশিক্ষণের সময় দক্ষতার জন্য নেভাল কোর্সে প্রথম হয়েছিলেন তিনি। নৌ কমান্ডো হিসেবে বিভিন্ন সময় সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি।
মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানী ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি সাতক্ষীরা-২ আসন থেকে পুনরায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মনোনয়ন পেয়েছেন। তার প্রতীক নৌকা।
সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, জনগণ যদি সুযোগ দেয় তাহলে অবশিষ্ট কাজগুলো শেষ করতে পারবো।
তিনি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আমার নির্বাচনী এলাকায় ৫১টি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় চার তলা বিশিষ্ট ভবন দিয়েছি। এর মধ্যে ২১টি বিদ্যালয়ের কাজ সম্পূর্ণরুপে শেষ হয়েছে। সদর উপজেলার ৯০ ভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ করেছি। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা জোরদার করেছি, দল এখন অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। দলটাকে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য কাজ করছেন। মাছখোলা নদীর ওপারে বিদ্যুৎ, কালভার্ট, রাস্তা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬০টির মত নতুন রাস্তা তৈরি ও পুরাতন রাস্তা সংস্কার, ৪৫টি ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ, ২৫টির মত বাজারে সোলার লাইট স্থাপন করা হয়েছে। আমি নিজে প্রতিবন্ধীদের জন্য স্কুল নির্মাণ করেছি।
তিনি বলেন, আমি একটি সুন্দর আর আধুনিক সাতক্ষীরার স্বপ্ন দেখি- যেখানে মাদক, বাল্যবিবাহ, সন্ত্রাস, চোরাকারবারী থাকবে না। অস্থিতিশীল সাতক্ষীরা চাই না। কিন্তু কিছু মানুষ এখনো সচেতন না হওয়ায় এসব সমস্যা এখনো লেগে আছে। তবে সব দিক থেকে সাতক্ষীরা শ্রেষ্ঠ। আমি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা সংসদে কয়েক বার বলেছি। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজকে কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু এখনো কোন অগ্রগতি হয়নি। এটা আমাদের জন্যে বেশি কষ্টের। আমাদের ছেলে-মেয়েরা দেশে-বিদেশে ক্রীড়া ক্ষেত্রে ভালো করছে। তাদের এগিয়ে নিতে আমাদের কোন ভালো ক্রীড়াক্ষেত্র তৈরি হয়নি। এছাড়া সবচেয়ে বেশি দুঃখ শহরবাসীর জন্য। ছোটবেলায় দেখতাম প্রাণসায়ের খাল অনেক বড় ছিল। কিন্তু শহরের বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা আর বড় করা সম্ভব না। কিন্তু নান্দনিক করে তোলা সম্ভব। এটা সাতক্ষীরাবাসীর বিনোদনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে। সেই উদ্যোগ না নিতে পারায় আমাদের শহরের মানুষ অনেক কষ্ট পাচ্ছে। যদিও এজন্য ইতোমধ্যে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রাণ সায়েরকে ঘিরে শহরটাকে নান্দনিক করে তোলা হবে। এছাড়া সদর উপজেলাকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
এসব ছাড়াও আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভালো করতে হবে। জেলার সাথে খুলনা আর যশোরের যোগাযোগ সহজ করতে হবে। এর জন্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রেল লাইন। আমাদের প্রাণের দাবি এই রেল লাইন। নির্বাচিত হলে রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবো। ভোমরা পোর্টটি অনেক ছোট। এটাও আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক দুর্ভোগের কারণ। জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়ছে। এজন্য আলাদা একটা পাওয়ার প্লান্ট করার উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সাতক্ষীরার ছোট সড়কগুলো বড় করতে হবে। সাতক্ষীরায় একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন তৈরি করতে হবে। যা আজ সময়ের সাথে সাথে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সুপেয় পানির সরবরাহ বাড়াতে হবে। এখনো কিছু কিছু এলাকায় সুপেয় পানির বড্ড অভাব রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে হবে। তাদের পাশে দাড়ানোর মত লোকের বড়ই অভাব।
এমপি রবি বলেন, সাতক্ষীরাকে একটি নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা আমার স্বপ্ন। সাতক্ষীরার আপামর জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পরিপূর্ণভাবে সেবাদান উপযোগী করে গড়ে তোলা, সাতক্ষীরার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে খানপুরে ১০০ একর জমির উপর একটি ইকোনোমিক জোন তৈরি করা, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলসকে পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার বিষয়টি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। এতে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠে এগিয়ে নিতে হবে পুরো জেলাকে। বিশ্বের বুকে পরিচিত হবে- সড়ক পথে সুন্দরবন যেতে হলে, সাতক্ষীরায় যেতে হবে। এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব হলে এই জেলা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মানুষ কষ্ট পায়। এই দুটো হাসপাতাল ও সকল ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে সেবাকে সহজ করে তুলতে চাই। জেলার বেকার মানুষকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে ভোমরা পোর্টকে আরও গতিশীল করবো। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের নিয়ে ছোট ছোট শিল্প-কল-কারখানা তৈরি করতে চাই। তৃতীয়ত, সাতক্ষীরাকে একটি আধুনিক আর নান্দনিক শহর হিসেবে মানুষের কাছে উপহার দিতে চাই।
তাই সর্বস্তরের মানুষের কাছে আহবান আসন্ন নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রতীকে ভোট দিন, সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা উপহার নিন।
