আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে ত্রিশ বছরের চরভরাটি জমির মাছের ঘের দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মারপিট, অগ্নিসংযোগ ও ঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়ার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন উভয় পক্ষ।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় উপজেলা সদরের চর চাপড়া গ্রামে। ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মৃত আনার মিস্ত্রির স্ত্রী লাইলী খাতুন জানান, তিনি একজন ভূমিহীন। নিজের জমি না থাকায় প্রায় তিরিশ বছর আগে থেকে মরিচ্চাপ নদীর চর ভরাটি নির্জন জমিতে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে বসবাস শুরু করেন। এরপর চর ভরাট হতে থাকলে অন্য লোকজন এসে চরে বসবাস শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে তার বসবাসকৃত জমি (চাপড়া মৌজার ১১৫৯ নং বুজরত, ৪৭৭ নং ডিপির ২৯১১ নং দাগসহ অন্য দাগ) চাপড়া গ্রামের আব্দুর রউফ সরদার দাবি করলে তিনি তাদের কাছ থেকে সোয়া তিন শতক জমি ৩৬২৯ নং দলিলে ক্রয় করেন। এরপর প্রায় একযুগ কেটে গেলেও কেউ তার বসবাসকৃত জমি দাবি করেননি।
বিগত এক মাস আগে চাপড়া গ্রামের মাজেদ সরদারের ছেলে নজির আহম্মেদ ও ছহিল উদ্দীনের ছেলে আজারুল লাইলী খাতুনের দখলে থাকা আরো সাড়ে আট শতক জমি দাবি করে তা লিখে নেয়ার কথা বলে ষাট হাজার টাকা দাবি করেন। ১৮ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রি করার জন্য টাকা নেয়ার পরেও তারা জমি লিখে দেননি।
শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ইউপি সদস্য বিউটি খাতুনের উপস্থিতিতে জমি মাপজরিপ করে সাড়ে আট শতক জমি বের করে দেওয়া হয়। জমির মালিকরা বাঁধের বাঁধ কেটে দেয়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে প্রতিপক্ষ সিরাজুলের ছেলে আজিজুল আহত হয়।
ওই দিন রাতে কে বা কারা লাইলী খাতুনের ছেলে ছাইফুর মিস্ত্রীর বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় কেউ বাড়িতে ছিলেন না। পাশের লোকজন টের পেয়ে দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে।
সকালে ছাইফুরের পক্ষের লোকজন মাপজরিপ করে দেওয়া নতুন বাঁধ কেটে দিয়ে পুর্বের ন্যায় দখল করে নেয়। ছাইফুরের মা বলেন, চরের সরকারি জমি তিরিশ বছর ধরে আমি বসত করছি। টাকা নিয়ে আমার জমি লিখে দিচ্ছেন না। আরো হামলা মামলা করে আমাকে হয়রানি করছেন।
প্রতিপক্ষ সিরাজুল ইসলাম জানান, মাপজরিপ করে আমরা নিজেদের জমি বেঁধে নিলে তারা আমার ছেলেকে মারপিট করে। রাতে নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুন দিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমরা তার কাছ থেকে কোন টাকাও গ্রহণ করিনি।
