Site icon suprovatsatkhira.com

গাবুরায় স্বেচ্ছাশ্রমে রিং বাঁধ সম্পন্ন

গাবুরা শ্যামনগর প্রতিনিধি: নদী ভাঙন যেন উপক‚লের মানুষের পিছু ছাড়ছে না। তবে নদী ভাঙনের জন্য সরকারি অবস্থাপনাকে দায়ি করেন উপক‚লের মানুষ। গত বছর আম্পান ঝড়ের পরে উপক‚লের মানুষের যে পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয় সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। (২৬ মে) ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদীতে জোয়ারের পানি ৬-৭ ফুট বৃদ্ধি পায়। গাবুরায় ১৪টি পয়েন্টে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।অবশেষে শ্যামনগর গাবুরার বানভাসি মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় স্বেচ্ছশ্রমে লেবুবুনিয়া ও গাবুরা ৩নং ২টি পয়েন্ট ভেঙে যাওয়া বেড়ীবাঁধটি রিং বাধ দিয়ে আটকাতে পেরেছে। টানা ৬ দিন পর মঙ্গলবার গাবুরা ইউনিয়নের বানভাসি মানুষ নিজেদের প্রচেষ্টায় ভেঙে যাওয়া বাঁধটি দিতে সক্ষম হন। মঙ্গলবার (২জুন) সকাল থেকে হাতে হাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভাঙা বাঁধ নির্মাণের প্রাণপণ চেষ্টা করছেন কয়েক গ্রামের বাসিন্দারা। তারা বাঁশ, মাটি, বস্তা দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের সক্ষম হয়ে ছেন।

ইউপি সদস্য আবিয়ার জানান, বুধবার (২৬ মে) ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে কপোতাক্ষ নদীতে জোয়ারের পানি ৬-৭ ফুট বৃদ্ধি পায়। এতে গাবুরা ইউনিয়নের ১৪টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল তারমধ্যে ৫টি স্থানে বেড়ি বাঁধ ভেঙে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরাজীর্ণ বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়। এ সময় জোয়ারের পানিতে ১২টি গ্রাম প¬বিত হয়। গাবুরার বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ৫টি পয়েন্ট আটকাতে সক্ষম হয়েছে । তবে পাঁচটি স্থানে স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ মেরামত করায় এখন সেসব স্থানে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। স্বেচ্ছায় শ্রমিক মিজানুর রহমান জানায়, গাবুরার আশপাশ এলাকাটি পানির নীচে তলিয়ে ছিল ৬ দিন যাবৎ। এতেকরে অনেকের বাড়িঘর আঙিনায় পানিতে তলিয়ে যায়। সরকারি বাজেট প্রক্রিয়ায় দেড়ি হওয়ায় নিজেদের উদ্যোগে রিং বাঁধটি সম্পন্ন করে তারা। রিংবাধ দিয়ে লোনাপানির কবল থেকে তারা রেহাই পেয়েছে। ফলে এলাকাবাসী জোয়ার ভাটার পানি থেকে মুক্ত হয়েছেন।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাছুদুল আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের কারণে ঢেউয়ের আঘাতে ২৬ মে গাবুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এবং পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। সেই ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের সময় পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। প্ল¬বিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বিগত ৬ দিন ধরে সকাল থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এবং জোয়ার ভাটার পানি থেকে অবশেষে মুক্ত হয়েছেন। এলাকাবাসির একটাই দাবি ত্রাণ নয় টেকসই মজবুত বেড়ীবাঁধ চাই তারা। তারা বলেন, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই অসাধ্য কাজটি করেছেন। তাদের এই পরিশ্রম যেন বৃথা না যায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

https://www.facebook.com/dailysuprovatsatkhira/
Exit mobile version