Site icon suprovatsatkhira.com

প্রতি ভরি সোনার দাম ২০০ টাকা: সুভাষ চৌধুরী

হঠাৎ সোনার দাম পড়ে গেছে। প্রতি ভরি মাত্র ২০০ টাকা। কে না খুশী হবেন এ খবরে। আর এ খবর দিলেন আমার এক প্রভাতী বন্ধু। তিনি বললেন সংবাদপত্র পড়–ন। দেখুন সোনার দাম। জানতে চাইলাম কোথায় পাওয়া যাবে । বললেন খবরের কাগজ বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করুন। সত্যিই তাই। খবরের কাগজে পড়লাম ‘স্বর্ণের ভরি ২০০ টাকা’। তবে একটা কথা আছে। এই স্বর্ণ কিন্তু যেখানে সেখানে পাওয়া যায় না। এ জন্য দু’টি স্থানে যোগাযোগ করা যেতে পারে। জেলা রিটার্নিং অফিসার অথবা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। সেখানে যদি নাও মেলে তাহলে সরাসরি চলে আসুন এমপি পদপ্রার্থীদের কাছে । তারাই আপনাকে সঠিক তথ্য দেবেন। কারণ নির্বাচনী হাওয়ায় স্বর্ণের দাম হঠাৎ পড়ে গেছে। তবে এই স্বর্ণ আবার যখন তখন যার তার কাছে বিক্রিও হয় না। নির্বাচনী হাওয়ার সাথে তাল মিলাতে যেয়ে স্বর্ণের এতো মূল্যপতন ।
আপনি বিশ্বাস করুন আর নাই করুন ঠাকুরগাঁওয়ের সংসদ সদস্য প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেনের আছে ৫ ভরি সোনা । এর দাম ২০০ টাকা হিসাবে ১০ হাজার টাকা মাত্র। ঠাকুরগাঁওয়ের আরেক প্রার্থী দবিরুল ইসলামের আছে ১২ ভরি স্বর্ণ। তার দাম সাড়ে ১২ হাজার টাকা। আর কক্সবাজারের আলোচিত এমপি আবদুর রহমান বদির আছে ১৫ ভরি সোনা। তার দাম ৩০০০ টাকা হিসাবে ৪৫ হাজার টাকা। চুয়াডাঙ্গার প্রার্থী মো. শামসুজ্জামানের আছে ২০ ভরি স্বর্ণ। প্রতি ভরি ২০০০ টাকা হিসাবে এর দাম ৪০ হাজার টাকা। একই আসনের প্রার্থী অহিদুল ইসলামের কাছে থাকা ৫ ভরি স্বর্ণের দাম ৫০ হাজার টাকা। এমন বহু প্রার্থীর স্বর্ণের হিসাব রয়েছে আমার হাতে যা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। সবার কাছে থাকা স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা । আর সর্বনিম্ন ২০০ টাকা । আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা তাদের হলফনামায় এমন দর কষেছেন তাদের কাছে থাকা স্বর্ণের। যার জিনিস তিনি নিজেই যদি এর দাম পতন দেখান তাহলে তো আমজনতার কিছুই বলার নেই। আর সম্মানিত প্রার্থীগন রিটার্নিং অফিসারের কাছে এই হলফনামাই পৌঁছে দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে একটা কথা বলা দরকার। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন ‘সব দেশে মানুষের একটা প্রত্যাশা থাকে । সেটা হলো নেতার চরিত্র হয় যেনো পবিত্র। আমাদের দেশের মানুষেরও একই প্রত্যাশা’। আমি জানিনা ইকবাল মাহমুদের এই বচনের সাথে আমাদের মাননীয় এমপি পদপ্রার্থীদের সম্পর্ক কতোটা। কারণ প্রার্থীরা যে হলফনামা দিয়েছেন তাতে তারাই স্বর্ণের দাম লিখে দিয়েছেন। সূতরাং এ নিয়ে দর কষাকষির সুযোগ নেই। তবে তিনি এও বলেছেন হলফনামায় সব তথ্য সত্য দিতে হবে। সত্য বলতেও হবে। প্রার্থীরা হলফনামায় যে তথ্য দিচ্ছেন তা বই আকারে প্রকাশ করা হবে। অসঙ্গতি পেলে পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান।
তথ্য গোপন করার এই সংস্কৃতি কেনো তা আমার জানা নেই। তথ্য গোপন করে তারা পার পেয়ে যাবেন কিনা তাও বলা মুশকিল। সে বিষয়টি দুদক চেয়ারম্যান দেখবেন বলে কথা দিয়েছেন।
তাহলে ‘আমার নেতার চরিত্র হয় যেনো পবিত্র’ এই প্রত্যাশা কোথায় গড়ালো। প্রকৃতপক্ষে এই স্বর্ন যখন ক্রয় করা হয়েছে অথবা উপহার হিসাবে পাওয়া গেছে তখনকার মূল্য লিখবার নিয়ম রয়েছে হলফনামায়। মাননীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা এই সুযোগই পেয়েছেন। তারা স্বর্ন ক্রয় অথবা প্রাপ্তির সময়কার দাম কতো তাই উল্লেখ করেছেন। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন সেই সঠিক সময়টা যাচাই বাছাই করে দেখবেন কিনা জানা নেই।
তবু আর যাই হোক অন্ততঃ স্বপ্ন দেখিনি যে ‘সোনার ভরি ২০০ টাকা’। মাননীয় এমপি পদপ্রার্থীদের কল্যানে তাদের লেখায় দেখতে পেয়েছি সোনার ভরি ২০০ টাকা মাত্র। যিনি কন্যা দায়গ্রস্থ তার জন্য এটি একটি সুখবর বটে। আর আমজনতার সুখ কেবলমাত্র এ খবর পাঠ করে অথবা শ্রবন করে।
সুভাষ চৌধুরী , সাতক্ষীরা করেসপন্ডেন্ট , দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভি

https://www.facebook.com/dailysuprovatsatkhira/
Exit mobile version