Site icon suprovatsatkhira.com

ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াইয়ে ব্যস্ত খলিষখালীর কৃষকরা

খায়রুল আলম সবুজ, খলিষখালী (পাটকেলঘাটা): পাটকেলঘাটার খলিষখালীতে রোপা আমন ধান কাটা আর মাড়াই-ঝাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। মাঠে ফলানো সোনালী আমন ধান তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নির্বিঘেœ ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই আর ধান শুকানোর কাজে কৃষক-কৃষাণিরা নেমেছেন কোমর বেঁধে। ধান কাটাকে কেন্দ্র করে কৃষক-কৃষাণিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে খলিষখালীর গ্রামীণ জনপথ।
খলিষখালীর ৩ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল ইসলাম, শাহাবুদ্দীন ও নূপুর বেগম জানান, আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। তারা জানান, এবছর খলিষখালীর ৩৩টি গ্রমে ৩৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। কৃষকরা আগামী ১-২ সপ্তাহের মধ্যে সব ধান ঘরে তুলতে পারবেন। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদী।
খলিষখালীর বিভিন্ন হাওর-বিল ও গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে মন মাতানো মৌ মৌ গন্ধ ছড়ানো বিলের ধারের পাকা সোনালী আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। হেমন্তে শীতের সকালে সোনালী ধানের মিষ্টি গন্ধে মুখে তৃপ্তির হাসি নিয়ে কৃষক-কৃষাণিরা ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই আর গো-খাদ্য খড় শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাড়াই-ঝাড়াই শেষ হলে ধান শুকিয়ে ঘরে তুলতে কৃষাণিরা ধান বাড়ির উঠানে ছড়িয়ে রেখে শুকানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। খলিষখালীর কন্যা-জননীর ব্যস্ততা এখন দিনরাত। কিষাণ-কিষাণিদের কর্মব্যস্ততায় এখন বিলে-মাঠে বইছে বাংলার সেই চিরাচরিত রুপ।
কৃষকরা জানিয়েছেন, এবার রোপা আমন ধানের ফলন অন্য বছরের চেয়ে ভাল হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর কাঙ্খিত ফসল ঘরে উঠবে।
সরেজমিনে খলিষখালীর কাশিয়াডাঙ্গা, চোমরখালী, রাঘবকাটী, দুধলাই, টিকারামপু, বাগমারা, এনায়েতপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছে ধান কাটা নিয়ে।
খলিষখালীর টিকারাম পুর গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ২ বিঘা জমিতে ঊনচল্লিশ নামক আমনধানের আবাদ করেন। ধান কাটা শেষ করে ঘরেও তুলেছেন। তার ২ বিঘা জমিতে ২৭-২৮ মণ ধান হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর আমন ধান অনেক ভাল হয়েছে বলে তিনি জানান। ধানের দাম তুলনমূলক কম যদিও। আমন ধানের আবাদ করতে খরচ অনেক কম হয় তাই তিনি তার খরচ বাদে লাভের আশা দেখছেন।
রাঘবকাটী গ্রামের আরাক কৃষক সাইফুল গাজী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ২ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছিলেন। ৩-৪ দিনের ভিতরে সব ধান ঘরে তুলতে পারবে বলে জানান।
একই গ্রামের সালাম মোল্লা জানান, তিনি এবছর ৪ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেন। ফলনও ভাল হয়েছে। তিনি ৩ বিঘা জমিতে টেন নামক ধান ও ১ বিঘা জমিতে শিব জটা ধান আবাদ করেন। তিনি বলেন, শিব জটা ধান বিঘা প্রতি ১২-১৩ মণ ও টেন ধান বিঘা প্রতি ১৫-১৬ মণ হবে। তিনি জানান, এবছর বৃষ্টি কম হওয়ায় ফলন একটু কম হয়েছে। তবে আরো বলেন, বৃষ্টি কম হওয়ার কারণেই এ গ্রামের কৃষকরা নিচু জমিতে ধান রোপণ করতে পেরেছেন। বৃষ্টি বেশি হলে রাঘবকাটী দোয়া বিল নামে পরিচিত এ বিলটি প্রতি বছর অতি বৃষ্টির ফলে ডুবে যেত। কৃষকরা উপায় না পেয়ে সাদা মাছের চাষ করত। তবে এবছর বৃষ্টি কম হওয়ায় এ বিলে আমন ধানের আবাদ ভালভাবে করতে পারছি। তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর ধান তোলার সময় দাম কমে যায়। এবারো একই অবস্থা। ধানের দাম বাড়লে এবার কোন কৃষকেরই ধার-দেনার ঘানি টানতে হবে না।
এভাবেই খলিষখালীর কৃষকরা তাদের জমির ধান কেটে ঘরে তুলছেন। এবার কৃষকের ঘরে ঘরে নতুন ধানের চালের গুড়ায় নবান্ন উৎসব শুরু হবে।

https://www.facebook.com/dailysuprovatsatkhira/
Exit mobile version