Site icon suprovatsatkhira.com

অর্ধশত ভাড়াটে খুনি ও অবৈধ অস্ত্রধারীর সন্ধানে র‌্যাব-পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড প্রতিরোধে খুলনার প্রায় অর্ধশত অবৈধ অস্ত্রধারী ভাড়াটে খুনির সন্ধানে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও র‌্যাব। বিভিন্ন সময় এ সকল চিহ্নিত খুনি ও অস্ত্রধারীর হাতে রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা হত্যার শিকার হয়েছেন। বেশ আগে থেকে এদের গ্রেফতারে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাদের নজরদারি জোরালো করা হয়েছে।
খুলনা জেলা ও কেএমপি পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, মহানগর ও জেলায় বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া ভাড়াটে খুনিদের তালিকা নিয়ে মাঠে কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশের ওই তালিকা মোতাবেক বেশ কিছু নিষিদ্ধ ঘোষিত জনযুদ্ধের আত্মগোপনে থাকা সদস্য রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের নামে রয়েছে কমপক্ষে ৫/৬টি করে হত্যা মামলা। সম্প্রতি গত ২০ নবেভম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতপুরের কার্তিককুল এলাকার বৌবাজার সংলগ্ন মালুর মাঠে দু’দল সন্ত্রাসীর গোলাগুলির ঘটনায় দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের আব্দুল গফ্ফার শেখের ছেলে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মিরাজুল ইসলাম মারুফ নিহত হন। এ সময় একটি পাইপগান, একটি রিভলবার ও ৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। সেনহাটির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম ও দৌলতপুরের হোজি শহীদসহ একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য মামলার আসামি ছিলেন মারুফ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী মোস্তাক আহমেদ।
এছাড়া সন্ত্রাসী তালিকায় নগরীর বেশ কয়েকজন ভাড়াটে খুনির নাম রয়েছে। তারা সচারচার মানুষের সামনে দেখা দেয় না। তবে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তাদের অনুসারীদের ওপরে নজরদারি রেখেছেন।
২০১৭ সালের ২৫ মে রাত সোয়া ৯টার দিকে ডিবির পোশাক পরিহিত ৪ সন্ত্রাসী ফুলতলা দামোদর এলাকার খুলনা-যশোর রোডের নিজস্ব অফিসে ঢুকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার দেহরক্ষী নওশের গাজীও নিহত হন। মিঠু হত্যাকান্ডে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে রহস্য।
এছাড়া খুলনায় বিভিন্ন সময় একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযুক্তরা রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিতে। আলোচিত হত্যাকান্ডের মধ্যে রয়েছে ২০০৩ সালের ২৫ আগস্ট সন্ত্রাসীদের বোমা ও গুলিতে নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম, ১৯৯৫ সালের ২৫ এপ্রিল দুপুরে সদর থানার পাশে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নগর জাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কাশেম, ২০০০ সালের ১১ আগস্ট সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা ও তৎকালীন মেয়র প্রার্থী এসএমএ রব, ২০০৯ সালের ১১ জুলাই কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর শহীদ ইকবাল বিথার সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। ২০১৭ সালের গত ৯ মে রাতে দৌলতপুর আঞ্জুমান সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন ৫নং ওয়ার্ড ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি শেখ ইকবাল সরোয়ার। ২০ মে দৌলতপুরে ছাত্রদল নেতা শিপলু মোল্লা, ১৪ জুন রায়েরমহল এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন মোল্লা নিহত হন।
খুলনা জেলার পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ জানান, কিছু অসাধু মানুষ উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ভাড়াটে অবৈধ অস্ত্রধারী খুনিদের ব্যবহার করে থাকেন। ইতোপূর্বে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সেসব হত্যাকান্ডের তদন্তে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনও করেছে। ওই সকল বিষয় মাথায় রেখে তালিকাভুক্ত খুনিদের তালিকা হাতে নিয়ে মাঠে কাজ করছে জেলা পুলিশ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে যাতে এ সকল ভাড়াটে খুনিরা কোন প্রকার অবস্থান নিতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ জেলা পুলিশ।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির পিপিএম জানান, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত হত্যাকান্ডসহ জনমনে ভীতি সৃষ্টির জন্য সন্ত্রাসীরা অরাজকতা সৃষ্টিতে চেষ্টা করতে পারে। সেই সূত্রে একাধিক গোয়েন্দা টিম মাঠে কাজ করছেন। এ সকল অবৈধ অস্ত্রধারীরা সব সময়ের জন্য আত্মগোপনে থাকে। হঠাৎ করেই তারা সমাজের শৃঙ্খলা নষ্টে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড ঘটিয়ে থাকে। কেএমপি’র তালিকায় অবৈধ অস্ত্রধারী ও ভাড়াটে খুনিদের বিষয়ে কঠোর নজরদারি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

https://www.facebook.com/dailysuprovatsatkhira/
Exit mobile version