Site icon suprovatsatkhira.com

ভবদহের জলাবদ্ধ অঞ্চলে বস্তাবন্দি মাটিতে সবজি চাষ করে সফলতার মুখ দেখছে প্রান্তিক চাষীরা

আব্বাস উদ্দীন, মণিরামপুর (যশোর): ভবদহের জলাবদ্ধ অঞ্চলে বস্তাবন্দি মাটিতে সবজি চাষ করে সফলতার মুখ দেখছে প্রান্তিক চাষীরা। নিচু জলাবদ্ধ জমিতে বস্তায় মাটি ভরাট করে সার-পানি দিয়ে তাতে বিভিন্ন জাতের সবজির বীজ বপন করে নতুন এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে জলাবদ্ধতাকে জয় করেছেন যশোরের মণিরামপুরের ভবদহ অঞ্চলের অনেক প্রান্তিক কৃষক। ভবদহ এলাকার কৃষক আলী আকবর তার ৩৫ শতক পতিত নিচু জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে তিনি বেশ সফলতা পেয়েছেন। পাশাপাশি তার দেখাদেখি এলাকার আবু সাঈদসহ অনেক কৃষক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভবান হয়েছেন। কৃষক আকবর আলী তাই অনেকের কাছে অনুকরনীয় ও প্রেরনার দৃষ্টান্ত।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, বস্তায় মাটি ভরাট করে এ ধরনের সবজি চাষ পদ্ধতিতে চাষের শুরুতেই ৩০ কেজি মাটির সঙ্গে পরিমাণ মতো জৈবসার, খৈল ও রাসায়নিক সারের মিশ্রণ বস্তায় ভরাট করে ৩-৪ ফুট উঁচু করা হয়। মাটি ভর্তি ওই বস্তায় কৃষকেরা লাউ, করলা, ঝিঙে, পুঁইশাক, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া ও পেঁপেসহ বিভিন্ন প্রকার সবজির বীজ বপন অথবা চারা রোপণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে সবজি চাষকে স্থানীয় ভাবে বস্তা পদ্ধতিতে সবজি চাষ হিসেবে কৃষকেরা আখ্যায়িত করেছেন। জলাবদ্ধ এলাকার বিভিন্ন মৎস্য ঘের ও পুকুরপাড়, নিচু জলাভূমি অথবা বাড়ির আঙিনায় বর্ষা মৌসুমে এই পদ্ধতিতে সবজি চাষের বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে প্রান্তিক চাষিদের উদ্ধুদ্ধ করছেন বলে কৃষকেরা জানান।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মণিরামপুরে ভবদহ অঞ্চলের চাষিদের স্বাবলম্বী করতে সুশীলন নামের একটি বেসরকারি সংস্থা মনোহরপুর ইউনিয়নের পরিমল বিশ্বাস, আলতাফ হোসেন, ভবতোষ মন্ডল, দেবপ্রসাদ, আনন্দ সরকার, আবদুর রহিম, আলী আকবর ও আবু সাঈদসহ দশ জন চাষিকে বস্তা পদ্ধতিতে চাষাবাদের ওপর প্রশিক্ষণ দেন। এদের মধ্যে আলী আকবর ও আবু সাঈদ দুইজন মিলে ৩৫ শতক পতিত জমি লিজ নিয়ে ৬-৭ মাস আগে শুরু করেন এই পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ।
সরেজমিন মনোহরপুরের খাকুন্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আলী আকবর ও আবু সাঈদ এই পদ্ধতিতে তাদের লীজ নেওয়া জমিতে প্রায় ১’শ বস্তা বসিয়ে বিভিন্ন প্রকার সবজির আবাদ করেছেন। বস্তায় লাগানো লাউ গাছে বড় বড় লাউ ঝুলছে। শুধু লাউ নয় পাশাপাশি তারা উচ্ছে, করোলা ও ঝিঙের চাষ করেছেন।
কৃষক আকবর আলী জানান, শুধু লাউ, উচ্ছে, করোলা ও ঝিঙে নয়, মাটি ও গোবর সার মিশিয়ে তৈরি করা বস্তায় পুঁইশাক, বরবটি, মিষ্টিকুমড়া ও পেঁপেসহ অন্যান্য সবজির চাষও করা যাবে।
তিনি আরো বলেন, ভবদহের স্থায়ী জলাবদ্ধতায় টিকে থাকার তাগিদে এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে আমিসহ অনেক কৃষক সফলতা পেয়েছে। বস্তায় আবাদকৃত সবজির ক্ষেত থেকে ৭০ হাজার টাকার বেশি আয় করেছেন বলে তিনি জানান। বে-সরকারি সংস্থা সুশীলনের জেলা সুপারভাইজার তাপসকুমার দাস জানান, এটি একটি নতুন প্রযুক্তি। মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের দশ চাষিকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ দিয়ে এই পদ্ধতিতে চাষ শেখানো হয়েছে। ওই দশ চাষির সবাই কম-বেশি এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। এই পদ্ধতিতে কৃষকরা জলাবদ্ধতাকে জয় করে সবজির চাষ করে তাদের অর্থিক সামর্থ যাতে বৃদ্ধি করতে পারে সেটাই এই পদ্ধতির লক্ষ্য।
উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বলেন, চাষিদের বস্তা পদ্ধতিতে সবজি চাষ কাজ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদারকি করা হচ্ছে। বর্তমানে জলাবদ্ধতাকে হার মানিয়ে কৃষক পর্যায়ে প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে এই চাষ পদ্ধতি মানুষের মধ্যে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

https://www.facebook.com/dailysuprovatsatkhira/
Exit mobile version