Site icon suprovatsatkhira.com

মণিরামপুরে ভাসমান খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষে স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা

মো. আব্বাস উদ্দীন, মণিরামপুর (যশোর): নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় তথা মুক্ত জলাশয়ে মাছ চাষের পর এবার মণিরামপুরে মুক্ত জলাশয়ে ভাসমান খাঁচায় নতুন প্রযুক্তিতে মাছ চাষ শুরু করেছে মৎস্য চাষীরা। মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং উপজেলা মৎস্য অফিসের বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এই মাছ চাষ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উপজেলার কোমলপুর মালোপাড়া-সংলগ্ন ঝাঁপা বাঁওড়ে ১০টি ভাসমান খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের চাষ করা হচ্ছে। উপজেলা মৎস্য অফিস এটিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নিয়েছেন। আর এই প্রক্রিয়ায় মাছ চাষকে লাভজনক ও সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন মৎস্য চাষীরা।
উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে মাছ চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ প্রকল্পের আওতায় মণিরামপুরের ঝাঁপা বাঁওড়ের ১৪২ জন মৎস্যচাষীর মধ্যে ২০ জনকে নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। দলটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাঁওড়ে দশটি ভাসমান খাঁচা স্থাপন করে প্রাথমিক পর্যায়ে খাঁচা প্রতি ১৫ কেজি করে ১৫০ কেজি মাছ ছাড়া হয়েছে। যেখানে প্রতি খাঁচায় মাছ রয়েছে ২৮০টি করে। ক্রমে খাঁচা প্রতি এক হাজার মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েই এই চাষ শুরু করা হয়েছে। মৎস অফিস জানায়, উপজেলার খাটুরা বাঁওড়ে আরো একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। খাঁচা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে লোহার পাইপ, প্লাস্টিকের ড্রাম, নেট ও বাঁশ। খাঁচা তৈরি, পোনা অবমুক্তিকরণ এবং খাবার সরবরাহসহ প্রকল্প প্রতি দুই লাখ টাকা খরচ দেবে সরকার। এর অতিরিক্ত খরচ হলে তা বহন করবেন বাঁওড়ের সুবিধাভোগী চাষীরা। মাছের পোনা ছাড়া থেকে শুরু করে ৯০ দিন পরে মাছ ধরা হবে। প্রতিটি খাঁচায় ৪০০ কেজি করে একটি প্রকল্প থেকে মোট চার হাজার কেজি মাছ উৎপন্ন হবে। যা বিক্রি করে পুরো টাকা পাবেন সংশ্লিষ্ট চাষিরা বলে ধারণা করছে মৎস্য কর্মকর্তারা। ঝাঁপা বাঁওড়ের মৎস চাষী জয়ন্ত বিশ্বাস বলেন, বাঁওড়ের সোনার বাংলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ২০ জন সদস্য নিয়ে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষের এই প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দশটি খাঁচায় ১৫০ কেজি মাছ ছাড়া হয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিস এই প্রকল্প তৈরিতে সব ধরনের খরচ দিয়েছেন। মৎস্য চাষী জয়ন্ত আরো বলেন, একাধারে ৯০ দিন ঠিকমত খাদ্য দেওয়াসহ সুষ্ঠুভাবে পরিচর্চা করতে পারলে প্রতিটি মাছের ওজন হবে ৪০০-৫০০ গ্রাম। আর এখান থেকে যা লাভ হবে, তার পুরোটাই পাবে সংশ্লিষ্ট সকল মৎস্য চাষী। মণিরামপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করতে হলে সাধারণত সারা বছর পানি থাকে এমন নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়ের উন্মুক্ত জলাশয় প্রয়োজন হয়। গত জুনে এই প্রকল্পের অর্থায়ন করা হয়েছে। আমরা ঝাঁপা ও খাটুরা বাঁওড়ের প্রকল্প দুটিকে পাইলট হিসেবে দেখছি। ক্রমান্বয়ে পদ্ধতিটি উপজেলার খাজুরা, খেদাপাড়া, হরিহরনগর বাঁওড়সহ বিভিন্ন মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি এটিকে মাছ চাষে এক নতুন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে মনে করছেন।

https://www.facebook.com/dailysuprovatsatkhira/
Exit mobile version